কদিন ধরে অনেকেই ফেসবুকে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটা শিশুর ছবি শেয়ার করছেন, ছবিটা দেখতে সুখকর না তবুও শেয়ার করছেন কারণ এর সাথে কিছু অত্যন্ত আবেগময় কথা লেখা আছে । ভাষাটা এমন -
প্রত্যেকটা শেয়ার এবং লাইকের জন্য আলেকজান্দ্রা ৩ সেন্ট করে পাবে । তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্লিজ শেয়ার এবং লাইক করুন
হোমপেজে বার বার ছবিটা দেখতে দেখতে সিদ্ধান্ত নিলাম ঘেটে দেখব ব্যাপার কী । গবেষণা থেকে বের হল আলেকযান্দ্রা নামের এই বাচ্চাটা আসলেই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল । আলেকযান্দ্রা নামের এই বাচ্চাটার জন্য সাহায্য চেয়ে প্রথম মেইল করা হয় ২০০৫ সালে । প্রথম যে মেইলটা পাঠানো হয় সেটাতে একটা ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দেয়া ছিল যেটাতে সাহায্য পাঠাতে হবে । স্বাভাবিকভাবেই সেটা ছড়িয়ে যায় এর মেইল থেকে ওর মেইলে ।
মজার ব্যাপার (কিংবা দুঃখের ব্যাপার) ঘটল কিছুদিন পরে, কেউ একজন ব্যাংক একাউন্টটা বাদ দিয়ে যোগ করে দিল যে এই মেইলটা যতবার শেয়ার হবে সেটার জন্য বাচ্চাটা ৩ সেন্ট করে পাবে । ব্যাস ! ফ্রি তে কয়েক ক্লিক মেইল ফরোয়ার্ড করে যদি কাউকে সাহায্য করা যায় তবে ক্ষতি কী ? এভাবে মেইল থেকে মেইলে , ফেসবুকের শেয়ার থেকে শেয়ারে ছড়িয়ে গেল ছবিটা , ভুল কিছু তথ্য নিয়ে … আর চাপা পড়ে রইল মূল ইমেইলটাই ।
আমি ভেবে খুবই অবাক হয়েছি ২০০৫ সালে করা একটা ই-মেইল হোক্স কী করে ২০১২ সালে গোড়ায় দাড়িয়ে আমরা অবলীলায় শেয়ার দিয়ে যাচ্ছি , আজব ব্যাপার ! এই ইন্টারনেট মিডিয়া যে কত শক্তিশালী এর জন্য বিশাল কোন গবেষণায় যাওয়ার আসলে দরকার নেই , এই ছোট ঘটনাটাই যথেষ্ট।
ওয়েবে এসব হোক্স এর অনেক আর্কাইভ সাইট আছে । “Help Burned Baby Alexandra Email hoax” লিখে সার্চ দিন অসংখ্য ফলাফল পাবেন । সেসব সাইট নিয়মিত এসব হোক্স নিয়ে বলতে গেলে একরকম গবেষণাই করে । আপনি না হয় একটু কষ্ট করে গবেষণার ফলাফলটুকুই নিলেন । বিশাল ক্যাপশনওয়ালা ইমেজ হোক্সগুলো ইদানিং ফেসবুকে খুব বেশী ছড়াচ্ছে , এসব ছবি চেক করার একটা ভাল বুদ্ধি হল গুগল ইমেজ সার্চে ছবিটা দিয়ে সার্চ করা । এতে আশা করি তথ্যটা সঠিক কিনা তার একটা দিকনির্দেশনা পেয়ে যাবেন ।
সবশেষে অনুরোধ থাকবে কী শেয়ার করছেন তা যাচাই করে শেয়ার করুন , স্যোশাল নেটওয়ার্কিংয়ের এই যুগে চেক এন্ড ডাবল চেক করার অভ্যাস প্রত্যেকের থাকা অত্যন্ত জরুরী ।
সবাই ভাল থাকুন , সুস্থ থাকুন, হোক্স থেকে দূরে থাকুন ।
জটিল একটা লেখা লিখেছেন জামাল ভাই। মানুষের আবেগকে ইদানিংকালে আন্তর্জালিক সামাজিক মাধ্যম সাইটগুলোর মাধ্যমে অপব্যবহারের সুযোগ নেয়া হচ্ছে সেটা সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ রিং ভাই , আপনার শরীরের অবস্থা এখন কেমন ?
এরকম লেখা ছড়ায় এতে অবাক হবার কিছু নেই। তবে ২০০৫ সালের মেইল শুনে রীতিমত অবাক হলাম। ! !
প্রথমবার খুজে পেয়ে আমিও হতবাক হয়ে গেছি ! এ্মনও হয় !
পিওর সত্য