পাই (π) আর একটা কীবোর্ড কিংবা কীবোর্ড লেআউটের গল্প

আচ্ছা ? বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করেছেন নিশ্চয়ই । তাইলে বলেন তো পাইয়ের মান কত ? হুম! সংক্ষেপে পাই এর মান হিসাবে আমরা ৩.১৪ ব্যবহার করি । কিন্তু পাই একটা অমূলদ সংখ্যা … দশমিকের পর এর সংখ্যার অভাব নাই । একটা নমুনা দেখাই …
π = ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৮৯৭৯৩২৩৮৪৬২৬৪৩৩৮৩২৫০২৮৮৪ … চলতেই থাকবে ।
বাদ দিন সেসব সেসব কথা । আরেকটা কথা বলুন তো ? যদি পাইয়ের মান ব্যবহার করতে টাকা দেয়া লাগত তবে আপনার কেমন লাগত বলুন তো ? থাক ! মুখ খারাপ করে লাভ নাই । তারচেয়ে একটা নির্বুদ্ধিতার গল্প শুনে আসি –

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেটসের এক ডাক্তার ভদ্রলোক ( ভদ্রলোক বলা মনে হয় ঠিক হচ্ছে না ) , নাম ই.জে. গুডউইন । তিনি কিভিবে কী গোজামিল দিয়ে যেনো আবিস্কার করে ফেললেন π = 4 ! যাক আবিস্কার করেছেন সমস্যা নাই , সেটা অন্য গনিতবিদরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন । ঠিক হলে ঠিক হল , না হলে বাতিল ( যদিও এর মাঝে আবিস্কার হয়ে গেছে π একটা অমূলদ সংখ্যা , এর পূর্ণ সংখ্যায় মান থাকতে পারে না 🙂 ) । তিনি বেছে নিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ , দারস্থ হলেন রাজনীতিবিদদের ! রাজনীতিবিদরাও মহা বেকুবের মত সেটা পাশ করিয়ে দিলেন ( ইন্ডিয়ানা স্টেটস , বিল নং – ২৪৬ , ১৮৯৭ ) । রাজনীতিবিদরা অবশ্য বেশ খুশী হয়েছিলেন কারণ বিল অনুসারে যে ই π এর মান হিসাবে 4 ব্যবহার করবে তাকেই রয়্যালটি দিতে হবে ! আরো একটা ঘোষণা ছিল অবশ্য , সেটা হল রাজনীতিবিদরা ঠিক করেছিলেন ইন্ডিয়ানা স্টেটসের বইয়ে তারা বিনাশুল্কে π = 4 ব্যবহার করতে দিবেন ( শিক্ষা-সচেতন রাজনীতিক বটে !) 🙂

যাক , এইটা অবশ্য টেকেনি । স্তগিত বিল হিসাবেই এখনও আছে 🙂 তাই সেই হিসাবে আমেরিকানদের বুদ্ধিমান বলাই যায় ।

এবার আসি কীবোর্ড গল্পে ( গল্পটা লিখতে আর ইচ্ছে হচ্ছে না ) । আচ্ছা কেই যদি হঠাৎ আইন করে নেয় যে আপনি কী-বোর্ডে লেখার জন্য আপনাকে কর / রয়্যালটি দিতে হবে – কেমন লাগবে আপনার ? থাক ! আর বলতে হবে না । এই কথা অনেক অনেক বার বলেছেন ( কী-বোর্ড লেআউট নিয়ে ট্যাকনিক্যাল আলোচনায় গেলাম না , এটা অনেক হয়েছে । ইউনিজয় কেনো বিজয় নয় সেটাতেই প্রায় সবাই বিশেষজ্ঞ ) । শুধু এটুকুই আশা করি জাতি হিসাবে আমরাও একসময় বুদ্ধিমান হব … বুদ্ধিমান বাঙালী রাজনীতিবিদ && জনগন দেখার অপেক্ষায় আছি ।

পুনঃ অনেক কঠিন কঠিন কথা বলে ফেললাম মনে হয় ; আমার বয়সের জন্য যা উপযুক্ত মোটেও না । এবার একটু বয়সের কাজ করি – নীচের কার্টুনটা পেলাম সামহোয়্যারইন ব্লগে ( হাসতে হাসতে জান শেষ ! )

Advertisements

8 comments on “পাই (π) আর একটা কীবোর্ড কিংবা কীবোর্ড লেআউটের গল্প

  1. Rony বলেছেন:

    বুদ্ধিমান বাঙালী রাজনীতিবিদ && জনগন দেখার অপেক্ষায় আছি ।

    বুদ্ধিমান জনগণ পাওয়া গেলেও বুদ্ধিমান বাঙালী রাজনীতিবিদ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। 😦
    বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ হলে নির্বোধ হয়ে যায় 😦 😦 😦

  2. Faria Fahim Badhon বলেছেন:

    একবার মাথায় ভূত চেপেছিল। পাই (π) এর মান ৫০০ ঘর পর্যন্ত মুখস্ত করতে চেয়েছিলাম। ২২০ পর্যন্ত করে উৎসাহে ভাটা পড়েছিল 😛
    কিন্তু কিবোর্ড গল্পটা জানতে চাই …

    • Jamal Uddin বলেছেন:

      কিছু কিছু ভুত মাথায় চেপে থাকা ভাল , একদম নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে দিতে এসব ভুতের কোন জুড়ি নাই 🙂

      এই লেখাটা ছিল মূলত অভ্র এবং বিজয় নিয়ে যখন বিতর্ক চলছিল তখনকার । মোস্তাফা জব্বারের বিজয় নামের বাংলা লেখার সফটওয়্যারটা একটা পেটেন্টেড প্রডাক্ট এবং এর বিজয় নামে যে লে-আউট আছে সেটাও পেটেন্টেড – এবং আসল ভার্সন না কিনে ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ । অভ্রতে সেই সময়ে ইউনিবিজয় নামে একটা লেআউট ছিল যেটা প্রায় বিজয়ের মত ছিল ( যদিও ৭ টা অক্ষরের কী-স্ট্রোক ভিন্ন ছিল, এবং একটা কী স্ট্রোকের পরিবর্তন নতুন একটা লেআউটের জন্ম দেয় ) ~ জব্বার সাহের যেটা করলেন তা হল তিনি ঐ ডাক্তার ই জে গুডউইনের মত রাজনীতিবিদদের ধরে কাজ সারতে চাইলেন, একটা লেআউটকে জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইলেন । এটাই ছিল গল্প ।

      লিঙ্কঃ
      পুরো ঘটনার একটা ওভারভিউ
      টেকটিউনসে লেখা পোষ্ট

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s