“সুন্দর দিন সবার জন্য অপেক্ষা করে” (!)

বাসায় গিয়েছিলাম বিনা নোটিশে, একদম খালি হাতে । তার উপর কয়দিন পরেই পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে , তাই একটু তাড়াহুড়ো করেই ঢাকাই ফিরতে চাইছিলাম । সকালে উঠেই মনে হল আজকে আমার কপালে খারাবি আছে , ভাবলাম খারাবি যখন আছেই তখন এক-আধটু এক্সপেরিমেন্ট করতে দোষ কোথায় ? খারাবিকে খেলায় আমন্ত্রন জানিয়ে বিছানা ছাড়লাম ।

ট্রেনের বিশেষ ফ্যান হবার কারণে সকালে উঠেই ঠিক করলাম ট্রেনে যাবো । সিলেট থেকে জয়ন্তিকা ছাড়বে সকাল ৮ টা ৪৫ এ । শায়েস্তাগন্জ এসে পৌছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে । ট্রেন স্টেশন মানে শায়েস্তাগন্জ জংশনটা আমাদের শহর থেকে আরো আধা ঘন্টার রাস্তা । প্ল্যান ছিল ৯ টা , সোয়া ৯টার দিকে বাসা থেকে বিদায় নেবো , কিন্তু সব মিলিয়ে সেটা হয়ে গেল সাড়ে ৯ টা । ভাবলাম রিকশা পেলেই সাই করে বাস স্ট্যান্ডে চলে যাবো , সেখান থেকে গাড়িতে শায়েস্তাগন্জ । কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না , যেখানে সবসময় চার-পাচটা রিকশা সবসময় যাত্রীর জন্য বসে থাকে সেখানে একটা রিকশা তো দূরে থাক একটা মানুষেরও দেখা নেই ! সময় নষ্ট না করে হাটা দিলাম । এক্সপেরিমেন্ট ১ এর ফলাফল ১৫ মিনিট লেট !

স্টেশন হয়ে দুই রকম বাস যায়, একটা লোকাল আর আরেকটা বিরতিহীন । তবে তাড়াতাড়ি করার জন্য আমি সাধারণত সিএসজিতে করে যাই । এক্সপেরিমেন্ট দিবস উপলক্ষে বাস ধরলাম , বিরতিহীন যেহেতু তাড়াতাড়ি যায় তাই বিরতিহীনেই চাপলাম । বসে আছি তো বসেই আছি বাস ছাড়ার আর নাম গন্ধ নেই ! কনডাক্টর যাকেই দেখছে তাকেই বলছে – “বিরতিহীন ! বিরতিহীন !! আর টাইম নাই । এখনই ছাইড়া দিব!” – বাস একবার সামনে যায় , আবার পিছনে যায় , কিন্তু ছাড়ে তো আর না । সেই বাস “এখনই ছাড়বে , এখনই ছাড়বে” করতে করতে ছাড়ল ঠিক দশটায় । হিসেব মত বাস স্টেশনে পৌছুবে সাড়ে দশটায় , আর ট্রেন ছেড়ে যাবে ১০টা ২০ মিনিটে । আমি বাসে বসে বসে দোয়া-দুরুদ পড়তে লাগলাম আর খোদার কাছে বলতে লাগলাম – “ হে আল্লাহ ! প্লিজ ট্রেনটা ১০ মিনিট লেট করে দাও !” – তখনও আমি জানতাম না এই দোয়ার তীব্রতা অতিমাত্রায় বেশি হয়ে যাবে …

স্টেশনে পৌছেই তাড়াতাড়ি কাউন্টারে গেলাম । কাউন্টারের লোকটা আমার পরিচিত , যদিও জানিনা লোকটা আমাকে চেনে কিনা ! কাউন্টারে উকি দিয়ে দেখি আরেকটা গুমরোমুখো লোক বসে আছে , শুধালাম – “সকালের ঢাকার ট্রেন কি চলে গেছে ?” – ওপাশ থেকে জবাব আসল – “না” , আবার শুধালাম – “টিকেট হবে?” – লোকটা বলল – “হবে।” একটু অবাক হলাম ! ঘড়িতে বাজে সাড়ে ১০টার উপরে এখন টিকেট পাবার কথা না । যাদের কাছে বিষয়টা ঘোলাটে লাগছে তাদের জন্য বলছি – বাংলাদেশের সব সিস্টেম কাগজে-কলমে একেবারে পারফেক্ট , কোন উনিশ-বিশ নাই । ১০টা ২০ মিনিটে ট্রেন আসার কথা থাকলেও আসেনি , কিন্তু টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট দেয়া ঠিক ১০ টা ২০ মিনিটেই শেষ ! কাগজে-কলমে ট্রেন ঠিকই ১০টা ২০ মিনিটে এসেছে , যদিও দিল্লী বহু দূর । যাই হোক, শিওর হবার জন্য জিজ্ঞেস করলাম – “ট্রেন আসবে কয়টায় ?” – ওপাশ থেকে উত্তর আসল ৩ টায় ! আমি ভাবলাম আমি ভুল শুনছি তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম – “ জয়ন্তিকা আসবে কয়টায়?” , এবার লোকটা বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল – “ আমার আবারও আপনাকে বলতেছি – জয়ন্তিকা আসবে ৩ টায়” – আমি ভাবলাম ধরণী দ্বিধা হও আমি ভেতরে যাবো ।

এবার ঢাকা যাওয়ার জন্য আবার শায়েস্তাগন্জ নতুন ব্রিজ নামের যায়গায় যেতে হবে । ন্যাশনাল হাইওয়ের পাশে হওয়ায় শ্যামলী , আল-মোবারাকার বাসগুলো পাওয়া যায় । শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে আগে কখনও শায়েস্তাগন্জ থেকে যাই নি , ভাবলাম এক্সপেরিমেন্ট যখন শুরু করেছি তখন আর বাদ যাবে কেনো ? যাবো যখন শ্যামলীতেই যাবো ! কাউন্টার থেকে জানালো তিনটা বাস রাস্তায় থাকলেও সেখানে সিট নেই , সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ! ভাবলাম করি , সমস্যা কী ? টিকেট দিতে বললাম – টিকেট লিখে কাউন্টারের লোকটা বলল ২৪০ টাকা দিতে । পুড়ো কপাল একেই বলে , যেখানে হবিগন্জ থেকে আরাম করে বাসে চড়ে আসতে পারতাম মাত্র ২০০ টাকায় সেখানে ১৫ টাকা বাস ভাড়া আর ৩ টাকা লেগুনা ভাড়া দিয়ে এসে ২৪০ টাকা দিয়ে ঢাকায় যেতে হবে । পকেট হাতড়ে দেখলাম ২৩৭ টাকা ভাংতি আছে , আর বাকিগুলো ৫০০ টাকার নোট । ৫০০ টাকা দিতেই কাউন্টার থেকে বলল ভাংতি দিতে । আমি বললাম “২৩৭ টাকা ভাংতি আছে , নেবেন ?” – বেচারা আর কী করবে আমাকে ২৩০ টাকার একটা টিকেট লিখে দিলো ।

বাস আসল , উঠলাম । ভাল একটা যায়গাও পেয়ে গেলাম বসার । এবার ভাবতে লাগলাম আমার মোট লস কত হল । যদি ট্রেনে আসতাম তবে খরচ হত –

বাস ভাড়া ( স্টেশন পর্যন্ত ) – ১৫ টাকা
ট্রেন ভাড়া – ১২০ টাকা
বাস ভাড়া ( হলে আসার জন্য ) – ১০ টাকা

সর্বমোট – ১৪৫ টাকা

আর এই এক্সপেরিমেন্ট করে খরচ হল –

বাস ভাড়া ( স্টেশন পর্যন্ত ) – ১৫ টাকা
লেগুনা ভাড়া – ৩ টাকা
বাস ভাড়া – ২৩০ টাকা
রিকশা ভাড়া – ৫০ টাকা ( বাস ঐপাশে এখন পাওয়া যায় না )

সর্বমোট – ২৯৮ টাকা

প্রায় ১৫০ টাকার মত বেশি । শেষে সায়দাবাদ থেকে হেটে পলাশী এসে রিকশা ভাড়াটুকু বাচিয়ে দিলাম , সাথে একটা হাটার এক্সপরিমেন্টও হয়ে গেল ! সবগুলো এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে এটাই বেশি উপভোগ করেছি , ঢাকার রাস্তায় ধীরে ধীরে সব দেখে হাটার মজাই আলাদা । রিকশা কিংবা বাসে সাইটসিয়িংএর কাজটা তেমন ভালো হয় না । একবার চেষ্টা করে দেখবেন , মজা পাবেন সেটা নিশ্চিত ।

এবার আসি শিরোনাম প্রসংগে, লেগুনা কিংবা এধরনের গাড়িগুলোতে অনেক মজার মজার কথা লেখা থাকে , আমি খুব মনযোগ দিয়ে এসব পড়ি । ট্রেন স্টেশন থেকে যখন বাস স্টেশনে যে লেগুনায় ( আমাদের ওপাশে বলে ম্যাক্সি ! ) চড়ে যাচ্ছিলাম সেটাতে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল – “সুন্দর দিন সবার জন্য অপেক্ষা করে” – আমারও বিশ্বাস সুন্দর দিন সবার জন্য অপেক্ষা করে , আমরাও একদিন সেই সুন্দর দিনের দেখা পাবো যেদিন ১০টা ২০ এর ট্রেন ৩টায় আসবে না , ঠিক ১০টা ২০ য়েই আসবে । যেদিন চারদিকে কোন মারামারি কাটাকাটি থাকবে না , দ্রব্যমূল্যের এমন লাগাম ছাড়া অবস্থা থাকবে না ,রাজনৌতিক দলগুলো মারামারি করবে না, রাস্তায় জ্যাম থাকবে না , পত্রিকায় কোন খারাপ খবর থাকবে না । সেই সুন্দর দিনের অপেক্ষায় থাকলাম ।

Advertisements

16 comments on ““সুন্দর দিন সবার জন্য অপেক্ষা করে” (!)

  1. রিং বলেছেন:

    ঢাকা থেকে খুলনা যাবার সোয়া সাতটার ট্রেনে (বিমানবন্দর ষ্টেশনে) একবার সকাল ১১টায় (কমলাপুর থেকে) চড়েছিলাম আর দিল্লী থেকে কোলকাতার ট্রেন একবার পুরো ২৪ ঘন্টা লেট পাবার অভিজ্ঞতা আছে। 🙂

    • Jamal Uddin বলেছেন:

      ঐ ট্রেনগুলো লেট হবার কারন আমার জানা থাকার কথা না , তবে আমি যে ট্রেনে আসতে চাইছিলাম সেটার লেট হবার কারণ আর কিছুই না – ইন্জিন গাড়ির সংকট ! এরকম একটা দরকারী সরকারী প্রতিষ্টানের এই হাল দেখে মাঝে মাঝে খুবই কষ্ট লাগে । আরেকটা জিনিস জেনে অবাক হবেন বছর খানেক আগে ট্রেনের সার্ভিস হঠাৎ করেই অনেক ভালো হয়ে গিয়েছিল – তখন প্রায় ২০ – ২৫ বার ঢাকায় আসা-যাওয়া করেছি , কোন দিনই ১০ মিনিটের বেশী লেট পাইনি !

  2. আসরাফ বলেছেন:

    প্রমানিত হল যে আললা আছে।

    • Jamal Uddin বলেছেন:

      এই ঢাকা শহরের দিকে তাকারেই তো বুঝা যায় , আল্লাহ সুবহানাওয়া তা’লা না থাকলে এই ঢাকা শহর আরো অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেতো । এই শহর যে কিভাবে টিকে আছে শুধু খোদাই জানেন …

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।

  3. MAQ বলেছেন:

    ১।
    বছর পাঁচেক আগে, গুলশান-১ থেকে পায়ে হেঁটে ধানমন্ডিতে গিয়েছিলাম! এখনো পর্যন্ত এটাই আমার রেকর্ড। 😛 সেদিন আবার পয়লা রমজান ছিল।

    ২।
    আল্লাহর রহমতে নিজের জন্য বেশ কয়েকটা ‘সুন্দর’ দিন পেয়েছি। আমি তাতেই খুশি! 🙂

    ৩।
    ম্যাক্সি এককালে ঢাকায়ও ছিল! এবার চোখেই পড়েনি একটাও। গাজিপুরের দিকে হলুদ রংয়ের একধরনের হিউম্যান হলার ছিল, ঐগুলোর নাম ছিল চ্যাম্পিয়ান। আমরা ডাকতাম ‘বমি’! যতবারই উঠেছি ততবারই দেখেছি কোন না কোন সিট বমিতে মাখামাখি হয়ে আছে! 😀

    • Jamal Uddin বলেছেন:

      আপনার হাটার রেকর্ড তো বেশ , রোজা রেখেছিলেন নিশ্চয়ই ? একবার রোজার সময়ে হেটে নানা বাড়িতে ( হাওরের মাঝ দিয়ে প্রায় ৬ মাইলের রাস্তা ) যাবার সময় টের পেলাম রোজা রেখে হাটা তেমন কষ্টের কাজ না যদি না মাথার উপর সূর্যটা না থাকে , তৃষ্ণা পেয়ে গেলেই সমস্যা । আমার তো নানা বাড়ি পৌছে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল । আপনার হাটার ফলাফল কী ?

      হিউম্যান হলার গুলো এখনও ছোট ছোট রুটে চলাচল করে – বকশি বাজার – নিউমার্কেট , ফার্মগেট – নিউমার্কেট … তবে এখন সবগুলোই সিএনজি তে কনভার্ট করা । সেদিন দেখলাম একটা 2-stroke-3-wheeler কেও সিএনজি করে রং-টং বদলিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে ! বাংলাদেশের মানুষ পারেও ! আপনার গাড়ির গল্পটা শুনে অনেকক্ষন হাসাহাসি করলাম 🙂

      অ.ট. আপনার ব্লগে BSOD Attack এর পোষ্টটা থেকে জানলাম আপনিও এলজি কুকি ইউজার ! 🙂 ফন্ট পরিবর্তন করে বাংলা ফন্ট দেবার কোন চেষ্টা করেছিলেন ? পুরো ফোনটা UTF-8 Encoding এ চলে , তাই শুধু ফার্মওয়্যারের ফন্ট পরিবর্তনেই কাজ করার কথা । সময় পাচ্ছি না বলে ঘাটাঘাটি করতে পারছি না ।

      ভাল থাকবেন 🙂

      • m@q বলেছেন:

        রোজা রেখে হাঁটার ‘কুফল’ সেদিন বেশ ভাল বুঝেছিলাম। নিজেকে বেশ মুসাফির মুসাফির লাগছিল। সঙ্গে আরো দু’জন বন্ধু ছিল। মাঝে মাঝে গাছতলায়/দোকানতলায় জিরিয়ে নিচ্ছিলাম! সেদিন গুলশান-১ থেকে ভয়াবহ জ্যাম লেগেছিল, আমার দেখা ঢাকার সবচেয়ে দীর্ঘতম জ্যাম! কোন কিছুই যেতে রাজী হয়না। ফলে বাধ্য হয়েই পদব্রজেই হন্টন!

        নাহ এলজি কুকি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় পাচ্ছিনা! 😛

        • Jamal Uddin বলেছেন:

          আপনাকেও আমার মত সমস্যার ধরেছিল দেখছি । নাহ! মুসলমান না হলে রোজার মত একটা চমৎকার জিনিস মিস করতাম ।

          পরীক্ষা শেষ হলেই কুকির পেছনে লাগব ভাবছি 🙂

  4. রিপন মজুমদার বলেছেন:

    এতো চমৎকার ফিনিশিং টাচ দিবেন- ভাবিনি।

  5. রেজওয়ান বলেছেন:

    ভাল লাগল।

    নাগরিক সেবাগুলো এমন হয়ে যাচ্ছে যে মনে হয় এদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছি। আজ অফিসে তাড়া ছিল এবং সিএনজিই একমাত্র অপশন ছিল। ৪০ টাকার দুরত্ব ৮০ টাকা হাকল। আমি বললাম মিটারে যত ওঠে ২০ টাকা বেশী দেব। কিন্তু সে ৭০ টাকার কমে যাবে না, আশেপাশে আর কোন সিএনজি বা মিশুক ছিল না। ওদিকে বারংবার অফিস থেকে ফোন আসছে। তাই গজ গজ করতে উঠে গেলাম। সে অবশ্য যুক্তি দেখাতে লাগল গ্যাসের মূল্য বেড়েছে। কিন্তু সেটাকি দ্বিগুণ বেড়েছে? আসলেই মগের মুল্লুক। এবং আমরাই তাদের লাই দিচ্ছি। আমি না হয় ৭০ টাকা দিতে পারলাম – কিন্তু যে পারছে না তার কি হবে?

    আমিও সেই সুদিনে্রই অপেক্ষায় যেদিস আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হব এবং সুদিন আসবে।

    • Jamal Uddin বলেছেন:

      সবকিছু এমন ভাবে ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে যে এখানে ঠিকঠাক মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন – আমাদের নেতারা তাদের অদূরদর্শিতা দিয়ে কাজটা দিন কে দিন আরো কঠিন করে দিচ্ছেন । তবে আমি আশাবাদি এই দুঃসময় বদলাবেই ।

      ভাল থাকবেন ।

  6. anindya01 বলেছেন:

    আশায় আশায় দিন কাটিবে ,

    আশা কি আদৌ পূর্ণ হইবে?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s