একুশে বইমেলা ২০১২ – পর্ব ১ – প্রথম দর্শন

মফস্বল এলাকায় বড় হবার কারণে বই মেলা জিনিসটা আমার কাছে বেশ নতুনই বটে । বছর পাচেক আগে প্রথমবারের মত আমাদের শহরে একটা ছোট্ট বইমেলা হয় । পৌরসভার মাঠে মূলত শহরের লাইব্রেরীগুলোর কয়েকটা স্টল, কিছু খাবারের দোকান, সারা মাঠে বেলুন, ভেপু আর ছোট-খাট খেলনার দোকান – এই তো । কিছু উৎসাহী পোলাপান অবশ্য নিজের কাছে থাকা “জোড়া-তালি দেয়া” কমিক্সের কালেকশনও বিক্রির জন্য উঠিয়েছিল ।  সেই সময়ে টিভিতে যখন একুশে বইমেলার সারি সারি বইয়ের দোকান আর গাদাগাদা বই দেখাত তখন ঢাকাবাসীদের জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে হিংসা আর নিজের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছিল কমন বিষয় । আহ ! সেই একুশে বইমেলা থেকে মিনিট দশেকের হাটা দূরত্বে থাকার মজাই আলাদা ।

হঠাৎ করেই ঠিক হল আজ বইমেলায় ঘুরতে যাবো ।  যেই কথা সেই কাজ, বিকাল ৫ টায় শহীদ মিনারে সবাই এক হবার কথা থাকলেও বের হতে হতে ঘড়ির কাটা সাড়ে ৫ টার ঘরে । এক বন্ধু বইমেলায় অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিল তাই তাড়াতাড়ি করার জন্য হাটার বদলে রিকশার দ্বারস্থ হতে হল । রিকশার ভাড়া ঠিক করতে গিয়ে টের পেলাম কত টাকায় কত কেজি চাল 😐 দোয়েল চত্ত্বরে নেমে দেখি সামনে মোটামুটি জনসমুদ্র ।

মেটাল ডিটেক্টর ডোরওয়ে গুলো দেখলে সবসময়ই আমার বুকে কাপনের সৃষ্টি হয়, সবসময় চেষ্টা করি মোবাইল, চাবি কিংবা এই টাইপের জিনিসগুলো টেবিলের উপর রেখে পার হতে । সব কিছু রেখে পার হবার পরও যখন “পুউউপ” করে একটা যান্ত্রিক অধিভৌতিক শব্দ করে তখন বুকে ধাক্কামতন লাগে , মনে হয় এই বুঝি আমাকে ডাকু চেহারার পুলিশ মামা এসে ধরে নিয়ে যাবে । পার হয়ে যাবার পর মনে হয় এই বুঝি পুলসেরাত পেরিয়ে এলাম । এইবারও সেই একই আতঙ্ক অনুভব করেছি । বই মেলা থেকে বের হবার সময়ে একই আতঙ্কে আতঙ্কিত মুখ দেখে নিশ্চিত হলাম – আমি একা না 🙂

বইয়ের কথায় আসি । আজ মাত্র মেলার তৃতীয় দিন ছিল, নতুন বই বলতে গেলে এখনও আসেইনি । যা আছে তা মূলত আগে প্রকাশিত বইগুলোর নতুন মোড়কে নতুন সংস্করণ । অনুবাদ বইগুলোর সংখ্যা খুব বেশি চোখে পড়েছে, সাথে ৫ টা উপন্যাস, ৩ টা উপন্যাসের সংকলনও ছিল বেশ । লিটল ম্যাগ চত্ত্বরের বেশিরভাগ স্টলই এখনও ফাকা পড়ে আছে – এক কোনায় বসুন্ধরা পেপারস এর একটা (আকাইম্যা) স্টল আর অন্য কোনায় সিসটেক পাবলিশার্স – এই যা । সিসটেক পাবলিকেশনে “সফটওয়্যার ইন্সটলেশন” নামের মোটামুটি স্বাস্থ্যবান বইটা নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ হাসি-তামাশা করতেই হল 😀

আজকের মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্য মুলত বই দেখা হওয়ার কারণে অন্যপ্রকাশের স্টলের দিকে যাওয়ার সাহস করিনি । জাফর ইকবাল স্যারের “কেপলার 221বি”  কেনার জন্য দেখার মত ভীড় ছিল , প্রকাশনীর নাম ভুলে গেছি – সময় প্রকাশন বা এরকম কিছু একটা হবে । আমাদের ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ব্যাচমেট  সৈয়দা লামমীম আহাদের লেখা “সবার জন্য জ্যোতির্বিদ্যা” বইটা কেনার ইচ্ছে ছিল, বইটা আসতে নাকি আরো ৩-৪ দিন লাগবে 😦

পুরো মেলায় দেখার মত প্রান চাঞ্চল্য থাকলেও কিছু  জিনিস বেশ চোখে লেগেছে, সেগুলো লিস্ট করেই বলা যাক –

  1. পুরো মেলা প্রঙ্গনে ধুলোর প্রকোপ ছিল মোটামুটি অসহনীয়র কাছাকাছি । যারা এজমা কিংবা শ্বাস-নালির প্রদাহ জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা অবশ্যই যাবার আগে মাস্ক নিয়ে যাবেন ।
  2. টিভি চ্যানেলগুলোর ক্যামেরার সংখ্যা মনে হয় একটু বেশীই ছিল, এদিকে ক্যামেরা, ওদিকে ক্যামেরা … টিভিতে সারাদিন লাইভ দেখলে বই কেনার সময় কই আর পড়ারই বা সময় কই ?
  3. ই-তথ্য কেন্দ্রে মাত্র ৩ টা টার্মিনাল ছিল, সেটার সংখ্য বাড়ানো দরকার এবং উচিত ।
  4. গত বারের মত এবারও বই মেলা থেকে বেরিয়েই অসংখ্য “বঙ্গবন্ধু পরিষদের” স্টল দেখে বিরক্ত লেগেছে ।
  5. গতবার ঢুকার পথেই কোথায় কোন প্রকাশনী আছে সেটা দেখিয়ে একটা বিশাল ম্যাপ ছিল, এবার সেটা চোখে পড়েনি ।

[১] এবার একটা বিজ্ঞাপনীয় ফুটনোট –

বইঃ সবার জন্য জোতির্বিদ্যা
লেখকঃ সৈয়দা লামমীম আহাদ  এবং  ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
তাম্রলিপি প্রকাশনী
ফেসবুক ফ্যান পেজঃ সবার জন্য জ্যোতির্বিদ্যা (Astronomy for All)  

Advertisements

3 comments on “একুশে বইমেলা ২০১২ – পর্ব ১ – প্রথম দর্শন

  1. zia shams sakib বলেছেন:

    bes valo laglo….mone hochchilo ami nijei boi melay present……sondor lekha.

  2. ভালো লেগেছে বইমেলা নিয়ে আপনার লেখাটা। ইচ্ছা ছিল এবারের বইমেলায় যাওয়ার কিন্তু পরীক্ষার কারণে যাওয়া হচ্ছেনা!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s