একুশের কিংবা বসন্তের কিংবা “কিছু একটার” হাহাকার !

হাহাকার শব্দটা যা বোঝায় সেটা বোধহয় একদম রক্তে মিশে থাকা একটা বিষয় । আমরা ভাবতে পছন্দ করি আমাদের চারপাশে শুধু হাহাকার আর হাহাকার ! পানির জন্য হাহাকার, বিদ্যুতের জন্য হাহাকার কিংবা শেয়ার বাজারের জন্য হাহাকার, জিপি ইন্টারনেটে স্পিডের জন্য হাহাকার, একটা ভাল নেতার জন্য হাহাকার ! আমেরিকানদের শান্তি শান্তি বলে হাহাকার, আফগানিস্থান, ইরাকে মানবতার জন্য হাহাকার ।  আমাদের আদি-পিতা-মাতা যখন স্বর্গে ছিলেন তখন নাকি কিছু একটা নেই, কিছু একটা নেই বলে হাহাকার করতেন । ধর্ম বলে মানুষ যখন স্বর্গে যাবে তখন আল্লাহকে না দেখা পর্যন্ত নাকি হাহাকার কাটবে না ।

এখন সময় রাত ৩ টা ৫৮ মিনিট । গতকাল  এবং গতদিন ঘুম একটু বেশীই হয়ে গেছে বলে আজ আর ঘুমাতে ইচ্ছেই হচ্ছে না – তাই বসে বসে পুরানো মুভি, সিরিয়াল গুলো রিভাইস দেবার চেষ্টার ফাকে ফাকে মাঝে মাঝে ফেসবুকের ফীডগুলো দেখছিলাম ( যদিও পরীক্ষার দোহাই দিয়ে আমার এখন বইপত্রই ঘাটাঘাটি করার কথা : ) – ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধু-বান্ধবের তালিকায় সাধারণত সমবয়সী ক্লাস-মেটরাই প্রাধান্য বিস্তার করে, আমার ক্ষেত্রেও সেটা ব্যতিক্রম না । সেজন্যই আমার বন্ধু-তালিকায় শুধু একুশ বছর বয়সীদের ছড়াছড়ি 🙂 – ২০১২ সালের এই ফেব্রুয়ারী তাই অন্য সব বারের চেয়ে অনেক বেশী একুশময় , অন্তত আমার জন্য ।

একুশ মানে ভাষার মাস,  ভাষার মাসের আরেকটা দিক আছে –  বাংলা ক্যালেন্ডারের পহেলা ফাল্গুন নামের দিনটা এই ভাষার মাসেই হঠাৎ করে হাজির হয় । আসলে বাংলা দিনগুলো হঠাৎ করেই হাজির হয় – হঠাৎ একদিন উঠে দেখতে পাই আজ পহেলা বৈশাখ, কিংবা আষাঢ়ের প্রথম দিন ! আগে বাসায় আসে বেশীরভাগ ক্যালেন্ডারেরই প্রত্যেকটা ঘরে দুইটা তারিখ লেখা থাকত, একটা বাংলা আরেকটা ইংরেজী । ইদানিং এই চল নাই বললেই চলে – ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে ইদানিং প্রায়ই হাহাকার বোধ করি ।

কীসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি । বয়স হয়ে গেছে তো , কথা শুধু প্যাচ খেয়ে যায় ( জিহ্বায় কামড় দেবার ইমো হবে ) যে কথা বলছিলাম , একুশের এই মাসে যখন বসন্ত নামের একটা জিনিস এসে আছে হাজির হয় তখন নিঃসঙ্গ একুশ বছর বয়সীদের মাঝে হাহাকারের সৃষ্টি হবে তাতে আর সন্দেহ কোথায় ? – এই হাহাকারের নাম বান্ধবের হাহাকার ! বান্ধবের হাহাকারে আজ ফেসবুক ফীডগুলো ছিল এমন – “জীবনের একুশটি বসন্ত পেরিয়ে গেল … ” কিংবা “একবিংশ ফাগুনের একাকীত্ব, তাতে কার কী এসে যায় ? ” অবশ্য বসন্ত মাঝে মাঝেই হাহাকার ঘোচানোর ক্ষণ হিসেবেও কাজ করে 🙂

বসন্তের আরো হাহাকার অবশ্য আছে ; বসন্তের নিজের হাহাকার, বসন্তকে ভুলে যাবার হাহাকার । বসন্ত হাহাকার করে যখন রাত ১২টা ১ মিনিটে মানুষজন বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময় করে ;  যখন বসন্ত শুরু হয় , যখন সূর্য্যি মামা মুখ তুলে তাকায় তখন মানুষজন লেপের নীচে ঘুমায় বলে । বসন্তের হাহাকার করে বাসন্তি সাজ-পোষাক আর আনন্দ উৎসবের পর “মডার্ন পার্টি” দেখে । বসন্তের হাহাকার মিশে থাকে ছোট ছেলেমেয়েদের বাংলা মাসের নাম না জানার মধ্যে , ন্যায্য মূল্য না পাবার কারণে শীত-কিংবা বসন্তের সামান্য আয়োজনটুকু করতে না পারা চাষীর মাঝে …

হাহাকারের এই ব্লগ থেকে বসন্ত আর একুশের একরাশ খাটি হাহাকারবিহীন শুভেচ্ছা রইল ।

Advertisements

One comment on “একুশের কিংবা বসন্তের কিংবা “কিছু একটার” হাহাকার !

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s